কেমন করে অ্যান্ড্রয়েড শিখব

আমি প্রায়ই একটি প্রশ্ন দেখি যে “কেমন করে অ্যান্ড্রয়েড শিখব”। তাই আজকে আমার নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি যারা কিনা অ্যান্ড্রয়েড শিখতে চান তাদের জন্য।

শুরুতেই Environment Setup টি করে ফেলুন।

https://developer.android.com/sdk/installing/index.html

২০১২ এর প্রথম দিকে আমি অ্যান্ড্রয়েড শেখা শুরু করি। জাভা ল্যাঙ্গুয়েজ আগে থেকে জানার কারনে অ্যান্ড্রয়েড শেখার ক্ষেত্রে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। আমার প্রথম অ্যাপ ছিল নোটপ্যাড। এই অ্যাপে প্রচুর বাগ ছিল এবং যেহেতু সব কিছুই ইউটিউবের ভিডিও দেখে করা বলতে গেলে কিছু না বুঝেই কাজ গুলা করেছিলাম। আমরা জানি যে অ্যাপ যখন প্রথম বার Eclipse এর মাধমে সাইন করি তখন একটি সার্টিফিকেট তৈরি করতে হয় এবং পাসওয়ার্ড ও এলিয়াস লাগে যা কিনা পরবর্তীতে অ্যাপটিকে আপডেট করতে কাজে আসে । তো আমি নোটপ্যাড অ্যাপের সার্টিফিকেটটি রাখি নাই তাই পরে আর সেটিকে আপডেটও করতে পারি নাই, বুঝতেই পারছেন অবস্থা খুব খারাপ :)। তাই আমার মত অবস্থা যাতে না হয় আপানার প্রতিটি পাবলিশ অ্যাপের জন্য এই তিনটি জিনিস অবশ্যই সংরক্ষণ করবেন। এখানে বলে নেওয়া ভাল অ্যাপের লোগো ও নাম, ভার্সন আপডেটের সময় পরিবর্তন করতে পারবেন কিন্তু প্যাকেজ নামটি আপনি পরিবর্তন করতে পারবেন না। প্যাকেজ নাম পরিবর্তনের জন্য আপনাকে নতুন একটি অ্যাপ বানাতে হবে। তাই অ্যাপের প্যাকেজ নামটি সঠিক ভাবে নির্বাচন করতে হবে।

আমার নিজের শেখার পাশাপাশি ইউনিভারসিটির বড় ভাই তাহিন রহমান উনি একদিন অ্যান্ড্রয়েডর একটি ধারনা দিলেন যার ভিতর ছিল মানিফেস্ট ফাইল, লেআউট ইত্যাদি।

যাইহোক তারপর আমি ও আমার বন্ধু তানজিনা মিলে শুরু করি আমাদের থিসিস প্রজেক্ট যা ছিল অ্যান্ড্রয়েডে বাংলা ও সি আর এর উপর। এর জন্য আমাদেরকে বেশ ভাল মত সময় দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড শেখা লাগল কারন আমদের বাংলা ও সি আর এর কাজটি ছিল মোবাইলে প্রথম। আমি এর জন্য নিউবস্টন এর ২০০ ভিডিও সিরিজটা দেখে ফেলি। শুনতে খুব কঠিন মনে হলেও প্রতিটি ভিডিও ১০ মিনিটের মত।

https://www.youtube.com/watch?v=SUOWNXGRc6g

২০১২ তে আমার জানামতে অ্যান্ড্রয়েডের উপর কোন বাংলাদেশী গ্রপ ছিল না তাই স্যার, বড়ভাই, গুগল, স্টাকওবভারফ্লো এইগুলোই ছিল ভরসা। এখন অনেকেই বলতে পারেন যে অ্যান্ড্রয়েডের নিজেস্ব টিউটোরিয়াল কি দোষ করেছে।

http://developer.android.com/index.html

হম কোন দোষ করে নাই। অন্যদের কথা জানি না কিন্তুু আমার কাছে এই সাইটের কন্টেন্ট গুলো বেশ কঠিন লাগত। শেখার জন্য আমি নিচের ২ টি লিঙ্ক দিলাম যা আমি ব্যবহার করতাম।

http://www.mkyong.com/tutorials/android-tutorial
http://www.vogella.com/tutorials/Android/article.html

থিসিস এর কাজের পাশাপাশি অ্যাপের কাজ করতে থাকি রুপান্তর এর জন্য সেটি করতে যেয়ে গুগল প্লে ডেভেলপার কনসোলের ব্যাপারটি আয়ত্তে চলে আসে। গুগল প্লে ডেভেলপার কনসোলের মাধমে আপানদেরকে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপটিকে মার্কেট প্লেসে দিতে হবে।

https://play.google.com/apps/publish

উপরের লিঙ্কটিতে গেলে আপনারা কনসোলটি দেখতে পারবেন, কিন্তু তার আগে আপনাকে ২৫ ডলার খরচ করতে হবে ডেভেলপার অ্যাকান্টটি অ্যাকটিভ করার জন্য (টাকাটি আপনাকে একবারি দিতে হবে)। টাকা দেওয়ার জন্য আপনার থাকতে হবে একটি ইন্টারন্যাশনাল ক্রেডিট কার্ড। আমাকে এই বিষয় সাহায্য করে আমার বন্ধু শহিদ। আপনারা ভাবছেন এ আর এমন কি ঝটপট কিনে ফেলি কিন্তুু না খেলা এখনও বাকি আপনি যদি অ্যাকান্টটি বাংলাদেশ থেকে খুলেন তাহলে পরে আর আপনার অ্যাকান্টটিকে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে পরিনত করতে পারবেন না। কারন পরে আসছি আগে বলি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট কেন লাগবে কারন এটি ছাড়া আপনি অ্যান্ড্রয়েড মার্কেট প্লেস অর্থাৎ গুগল প্লে স্টোরে ফ্রি অ্যাপ ছাড়া পেইড অথবা ইন অ্যাপ পারচেজ অ্যাপ দিতে পারবেন না ।

নিচের লিঙ্কটাতে গেলে দেখতে পারবেন যে কোন কোন দেশে গুগুল মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট সাপোর্ট করে, ভাল মত দেখলে দেখা যাবে বাংলাদেশ সাপোর্ট করে না। তাই আপনি যখন আপনার ডেভেলপার অ্যাকাউন্টটি খুলবেন তখন যদি আপনি আপানর জিমেইল অ্যাড্রেস যেটা কিনা বাংলাদেশ থেকে খোলা হয়েছে সেটি ব্যবহার করেন তাহলে বুঝতেই পারছেন পরে আর মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে পরিনত করতে পারবেন না । তাই যে সকল দেশ সাপোর্ট করে সেই সকল দেশ থেকে খোলা মেইল অ্যাড্রেস এবং ঐ দেশের থেকে অ্যাকাউন্টটি খুলতে হবে।

https://support.google.com/googleplay/android-developer/table/3539140?hl=en

আচ্ছা এটাতো গেল যারা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলবেন তাদের জন্য। কিন্তুু যারা এই ভুলটি করে ফেলেছেন এবং মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতেন চান তারা কি বসে থাকবেন। তাদের পুরনো অ্যাপ গুলো কিভাবে নতুন ডেভেলপার অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসবেন? এই সমস্যারও সমাধান আছে যা কিনা বিস্তারিত নিচের লিঙ্কটায় বলা হয়েছে।

https://support.google.com/googleplay/android-developer/checklist/3294213

যদি অল্প কথায় বলতে চাই ধরে নিচ্ছি আপানার একটি গুগুল প্লে ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট আছে কিন্তুু মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খুলতে গেলে বলছে যে “your country is not supported”। আচ্ছা এখন আপনাকে গুগুল মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট সাপোর্ট করে এমন কোন দেশ থেকে এবং ঐ দেশ থেকে খোলা মেইল অ্যাড্রেস (মেইল অ্যাড্রেস খোলার সময় যেই কান্ট্রিটি নির্বাচন করেছিলেন সেই দেশটি অবশ্যই সাপোর্টেড কান্ট্রি নেমের ঐ লিস্টের ভিতর থাকতে হবে) দিয়ে আরও একটি ডেভেলপার অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে এবং আরও ২৫ খরচ করতে হবে। এরপর মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ করতে হবে। তারপর উপরের লিঙ্কের স্টেপ গুলো পরপর করে পুরান অ্যাপ গুলো নতুন ডেভেলপার অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসতে হবে। এখানে বলে নেওয়া ভাল আপনি যদি এত ঝামেলা না চান, আপনি যদি চান ফ্রি অ্যাপ গুলো একটি অ্যাকাউন্টে আর পেইড অথবা ইন অ্যাপ পারচেজ অ্যাপ অন্য অ্যাকাউন্টে থাকবে, আপনি সেটাও করতে পারেন। কিন্তুু এই ক্ষেত্রে একটি অ্যাকাউন্টের অ্যাপ সাজেশন অন্য ডেভেলপার অ্যাকাউন্টে দেখাবে না অর্থাৎ More from developer অপশনটিতে নিজ নিজ অ্যাকাউন্টের সাজেশন গুলোই দেখাবে।

আমার এই লেখার পেছনে একটি অন্যতম কারন হল উপরের সব কিছুই আমার অজানা ছিল, যারজন্য অনেক সময় এর পিছনে ব্যয় করতে হয়েছে। তাই যারা নূতন তাদের যেন এই সমস্যা গুলো না হয় তার জন্য।

এস মাহবুব উজ জামান
১৬ অগাস্ট, ২০১৪

Advertisements

6 thoughts on “কেমন করে অ্যান্ড্রয়েড শিখব

  1. মার্চেন্ট একাউণ্ট না হয় ওভাবে করলাম। তার পর পেইড এপ গুলো কেউ কিনলে আমি টাকা পাব কিভাবে?

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s